রাষ্ট্রধর্ম ইসলামকে সংবিধানে অন্তর্ভুক্তির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে একটি রিট হাইকোর্টের বৃহত্তর বেঞ্চে শুনানির অপেক্ষায়৷ ১৯৮৮ সালের ৫ জুনে যে অষ্টম সংশোধনী পাশ করা হয়, তাতেই রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ইসলামকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল৷
ছবি: privat
বিজ্ঞাপন
ঐ সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সে সময়েই, অর্থাৎ জুন মাসেই সাবেক প্রধান বিচারপতি কামাল উদ্দিন হোসেনসহ ১৫ জন বিশিষ্ট নাগরিক হাইকোর্টে রিট করেন৷ দীর্ঘ ২৩ বছর যাবৎ আবেদনটি হাইকোর্টে বিচারাধীন রয়েছে৷ এ সময়ের মধ্যে রিটকারী ১৫ বিশিষ্ট নাগরিকের মধ্যে ১০ জন মারাও গেছেন৷ তখন রিটের আবেদনকারীদের আইনজীবী ছিলেন সুব্রত চৌধুরী৷ বর্তমানেও রিটকারীদের আইনজীবী হিসেবে লড়ছেন সুপ্রিম কোর্টের সেই সিনিয়র আইনজীবী৷ ডয়চে ভেলের সঙ্গে তাঁর আলাপচারিতায় উঠে এসেছে কোন প্রেক্ষিতে তাঁরা রিটটি করেছিলেন, সেই কথা৷ এই আইনজীবীর মতে, ‘‘সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম রাখা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থি৷'' কিন্তু বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের আমলে পঞ্চদশ সংশোধনীতেও রয়ে গেছে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম৷
সুব্রত চৌধুরী
This browser does not support the audio element.
ডয়চে ভেলে: কোন প্রেক্ষিতে আপনারা রিটটি করেছিলেন?
সুব্রত চৌধুরী: ১৯৮৮ সালে জেনারেল এরশাদ যখন সংবিধানে আর্টিকেল ২(এ) সংযোজন করে রাষ্ট্রধর্ম নিয়ে আসেন, তখন আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ সকল রাজনৈতিক দল এর বিরোধিতা করেছিল৷ এমনকি তারা একদিন হরতালও ডেকেছিল৷ তারা বলেছিল, কোনোদিন যদি তারা রাষ্ট্রক্ষমতায় আসতে পারে তাহলে এরশাদের এ সব কাজকে অবৈধ ঘোষণা করা হবে এবং আর্টিকেল ২(এ)-টিও বাতিল করা হবে৷ এমনটা তখন সকলেরই অঙ্গীকার ছিল৷ তারপরও সে সময়কার ১৫ জন বুদ্ধিজীবী মিলে একটি রিট আবেদন করেন, ১৯৮৮ সালের জুন মাসে৷ তখন অষ্টম সংশোধনীতে দু'টি অংশ ছিল৷ একটা হলো, হাইকোর্টকে পাঁচটি শহরে নিয়ে যাওয়া৷ সেটার একটা রিট হয়৷ আর অন্য রিটটা হয় এই রাষ্ট্রধর্ম নিয়ে৷ তখনকার সিনিয়র আইনজীবীরা বলেছিলেন, আগে হাইকোর্টের রিটটা ধরি, তারপর রাষ্ট্রধর্ম রিটটা ধরব৷
তৃতীয় মার্কিন প্রেসিডেন্ট টমাস জেফারসনের আমল থেকে ‘‘ধর্ম ও রাষ্ট্রের মধ্যে বিচ্ছেদ’’ কথাটি রাষ্ট্রবিজ্ঞানে চালু৷ বিভিন্ন দেশের সংবিধানে এই সমস্যার মূল্যায়ন ও সমাধান আজও আলাদা৷ তার কিছু নমুনা৷
ছবি: Jewel Samada/AFP/Getty Images
অস্ট্রেলিয়া
কমনওয়েলথ দেশটির সংবিধানে কোনো ধর্ম প্রতিষ্ঠা বা সরকারি পদ গ্রহণের জন্য কোনো ধর্ম পরীক্ষা নিষেধ করা আছে৷ অপরদিকে যে কোনো ধর্ম মুক্তভাবে পালন করার অধিকার দেওয়া হয়েছে৷ (ছবিতে সিডনির সংসদ ভবনের উপর অস্ট্রেলিয়ার লোগো)৷
ছবি: picture-alliance/dpa/L. Coch
ব্রাজিল
ব্রাজিলের বর্তমান সংবিধানে ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে; কোনো রাষ্ট্রীয় গির্জা প্রতিষ্ঠা নিষিদ্ধ করা হয়েছে৷ সরকারি কর্মকর্তাদের ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে কোনো ধরনের ‘‘জোট গঠন বা নির্ভরতা’’ নিষিদ্ধ৷ (ছবিতে ব্রাজিলের কনগ্রেসো নাসিওনাল বা জাতীয় কংগ্রেস, যার দুই কক্ষ হলো সেনেট এবং চেম্বার অফ ডেপুটিজ)৷
ছবি: Voishmel/AFP/Getty Images
চীন
গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের সংবিধানে বলা হয়েছে, ‘‘কোনো সরকারি বিভাগ, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি নাগরিকদের কোনো ধর্মে বিশ্বাস করতে বা না করতে বাধ্য করতে পারবে না; এছাড়া যে সব নাগরিক কোনো ধর্মে বিশ্বাস করেন অথবা করেন না, তাদের বিরুদ্ধে বৈষম্য করা চলবে না৷’’ (ছবিতে বেইজিং-এর গ্রেট হল অফ দ্য পিপল, যেখানে প্রতিবছর ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়)৷
ছবি: picture-alliance/dpa/How Hwee Young
ফ্রান্স
ধর্ম ও রাষ্ট্রের বিচ্ছেদকে ফরাসিতে বলা হয় ‘লাইসিতে’৷ ফ্রান্সে ধর্ম ও রাজনৈতিক ক্ষমতাকে পরস্পরের থেকে আলাদা রাখার চেষ্টা করা হয়েছে৷ একদিকে যেমন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলিকে রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ থেকে সুরক্ষিত করার চেষ্টা করা হয়েছে, অপরদিকে সরকারি ক্ষমতাকে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলির প্রভাবমুক্ত রাখার চেষ্টা করা হয়েছে৷ (ছবিতে প্যারিসের ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি বা জাতীয় সম্মেলন)৷
ছবি: picture-alliance/ZB/M. Tödt
জার্মানি
জার্মান সংবিধানে ধর্মের স্বাধীনতার গ্যারান্টি দেওয়া হয়েছে, যদিও জার্মানিতে গির্জা ও রাষ্ট্রের মধ্যে পুরোপুরি বিচ্ছেদ নেই৷ সরকারিভাবে স্বীকৃত গির্জাগুলিকে পাবলিক কর্পোরেশনের মর্যাদা দেওয়া হয়, তাদের প্রাপ্য কিছু কিছু কর সরকার আদায় করে দেন – তবে বিনামূল্যে নয়৷ ধর্মীয় শিক্ষা বাধ্যতামূলক পাঠ্য বিষয় নয়৷ (ছবিতে বার্লিনের বুন্ডেসটাগ বা জার্মান সংসদ)৷
ছবি: imago/Schöning
জাপান
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর মার্কিন দখলদারির সময় ধর্ম ও রাষ্ট্রের বিচ্ছেদ সংক্রান্ত মার্কিন ধ্যানধারণা জাপানে আরোপিত হয়৷ জাপানের সংবিধানে ধর্মপালনের স্বাধীনতা সুরক্ষিত করা হয়েছে, অপরদিকে সরকার ধর্মপালনের জন্য কোনোরকম চাপ দিতে পারবেন না, অথবা কোনো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কল্যাণে সরকারি অর্থ ব্যয় করতে পারবেন না৷ (ছবিতে টোকিও-র সংসদভবন)৷
ছবি: Reuters
সুইজারল্যান্ড
সুইশ কনফেডারেশনের ফেডারাল সংবিধানে ‘‘ধর্ম ও বিবেকের স্বাধীনতা’’-র গ্যারান্টি দেওয়া হয়েছে৷ বিশেষভাবে বলা হয়েছে যে, ‘‘কোনো ব্যক্তিকে একটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ে যোগ দিতে বা অঙ্গ হতে, কোনো ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে বা ধর্মীয় নির্দেশ অনুসরণ করতে বাধ্য করা চলবে না’’৷ (ছবিতে বার্ন শহরের বুন্ডেসহাউস বা ফেডারাল প্যালেস, যেখানে ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির অধিবেশন বসে)৷
ছবি: picture-alliance/dpa/P. Klaunzer
যুক্তরাজ্য
যুক্তরাজ্যের চার্চ অফ ইংল্যান্ডের প্রধান হলেন ব্রিটিশ নৃপতি স্বয়ং, তিনিই গির্জার উচ্চপদস্থ কর্মচারীদের নিয়োগ করেন৷ হাউস অফ লর্ডস-এও ২৬ জন বিশপের আসন আছে৷ সব সত্ত্বেও যুক্তরাজ্যে গির্জা ও রাষ্ট্রের মধ্যে যোগাযোগ সীমিত, যুক্তরাজ্যে সরকারি শাসনও অপেক্ষাকৃতভাবে ধর্মনিরপেক্ষ৷ ব্রিটেনের অলিখিত সংবিধান অনুযায়ী অপরাপর ধর্মীয় গোষ্ঠীও ব্যাপক স্বাধীনতা উপভোগ করে৷ (ছবিতে প্যালেস অফ ওয়েস্টমিনস্টার)৷
ছবি: Mohammad Karimi
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
গির্জা ও রাষ্ট্রের বিচ্ছেদ সম্পর্কে জেফারসনের প্রখ্যাত উক্তি মার্কিন সংবিধানে উল্লিখিত নেই৷ ফার্স্ট অ্যামেন্ডমেন্টে বলা হয়েছে যে, ‘‘(মার্কিন) কংগ্রেস কোনো ধর্ম প্রতিষ্ঠা সম্পর্কে, বা মুক্তভাবে ধর্মপালন নিষিদ্ধ করে কোনো আইন প্রণয়ন করবে না’’৷ (ছবিতে ক্যাপিটল হিল-এ মার্কিন কংগ্রেসের আসন)৷
ছবি: Jewel Samada/AFP/Getty Images
9 ছবি1 | 9
হাইকোর্ট নিয়ে যে রিটটা হলো, সেটা আপিল বিভাগ পর্যন্ত গেল এবং বাতিল হয়ে গেল৷ আর রাষ্ট্রধর্ম নিয়ে যে রিটটা হলো, সেটা করেছিলেন সাবেক প্রধান বিচারপতি কামাল উদ্দিন হোসেন, সুফিয়া কামাল, কে এম সোবহান, বিচারপতি দেবেশ চন্দ্র ভট্রাচার্য, কলিম শরাফী, অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদসহ ১৫ জন৷ এঁদের মধ্যে ১০ জন মারা গেছেন৷ অর্থাৎ আর মাত্র পাঁচজন এখন জীবিত আছেন৷ সে সময় আইনজীবীরা বলেছিলেন, ‘এই মামলাটার জন্য আরো কিছুদিন সময় নেই, দেখি আস্তে-ধীরে কী করা যায়৷' আমি ঐ রিটের ফাইলিং ল'ইয়ার ছিলাম৷ ফয়েজ আহমেদ সকলের পক্ষ থেকে এফিডেফিট করেছিলেন৷ এরপর ২০০৯ সালে আমরা মনে করলাম আর দেরী করা যাবে না৷ তাছাড়া সে সময়কার জজ সাহেবরা মামলাটা শুনতেও চাননি৷ তাঁরা বলেছেন, ‘এটা থাক, এটা থাক৷' ২০১১ সালে অষ্টম সংশোধনীর আর্টিকেল ২(এ) ওপর রুল ইস্যু হলো৷ প্রশ্ন উঠলো, এটা কেন বেআইনি এবং কেন এটা বাতিল ঘোষণা করা হবে না৷ এরপর পঞ্চদশ সংশোধনীতে আর্টিকেল ২(এ) আবারো সন্নিবেশিত করা হলো৷ এরশাদের ওটা একটু মডিফাই করে আওয়ামী লীগ সরকার আবার এটা করল৷ এটার ওপর আবার সাপ্লিমেন্টারি রুল ইস্যু হলো৷ পঞ্চদশ সংশোধনীতে শুধু আর্টিকেল ২(এ) চ্যালেঞ্জ করা হলো৷ অর্থাৎ ১৯৮৮ সালের মামলাতে দু'টো রুল পেন্ডিং হয়ে গেল৷ এই দু'টি রুলই এ মুহূর্তে শুনানির জন্য একটি বৃহত্তর বেঞ্চে অপেক্ষাধীন আছে৷
সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে যে, বাংলাদেশের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম৷ তারপরও এই রিট চলে কি? কারণ আপিল বিভাগের রায়ের প্রেক্ষিতেই তো পঞ্চদশ সংশোধনী হয়েছিল?
না, না৷ আপিল বিভাগের রায় কিন্তু রাষ্ট্রধর্মের কোনো বৈধতা দেয়নি৷ পঞ্চম সংশোধনীর রায়ে জিয়াউর রহমান সাহেব যে কাজগুলো করেছেন, সংবিধানকে একটা সাম্প্রদায়িক আবহে এনেছেন, সেটাকে সম্পূর্ণ অবৈধ ঘোষণা করেছে আদালত৷ যে কারণে পঞ্চদশ সংশোধনীতে আমাদের চার মূলনীতি আবারো বহাল করলাম৷ আর্টিকেল টুয়েলভে বলা আছে, রাষ্ট্র কোনো ধর্মকে বিশেষ মর্যাদা দেবে না৷ ধর্মের ভিত্তিতে কারো প্রতি বৈষম্য হবে না৷ ১৯৭২ সালের সংবিধানে ছিল যে আমাদের চারটি জাতীয় মূলনীতি আমরা পুনর্বহাল করলাম৷ সেখানে আর্টিকেল ২(এ) পুনর্বহালর আর তো কোনো সুযোগ নেই৷ এটা সম্পূর্ণ কন্ট্রাডিকটরি এবং রায়ের খেলাপ৷ পঞ্চম সংশোধনীর রায়ে এমনভাবে বলা হয়েছে যে, সেখানে কোনো ধরনের ধর্মীয় আবহ রাখার কোনো সুযোগ ছিল না৷
পঞ্চাদশ সংশোধনী যখন উচ্চ আদালতের রায়ের প্রেক্ষিতে হয়, তখন সরকার একটি কমিটি করেছিল৷ ঐ কমিটি বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষের সঙ্গে কথা বলেছে৷ তখন এই বিষয়টা আপনারা তোলেননি কেন?
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ‘মাইনোরিটি রাইটস গ্রুপ ইন্টারন্যাশনাল’ প্রতিবছর যেসব দেশে সংখ্যালঘুরা সবচেয়ে বেশি হুমকির মুখে আছে তার তালিকা প্রকাশ করে৷ ছবিঘরে ২০১৫ সালের জুলাইতে প্রকাশিত সবশেষ প্রতিবেদনের তথ্য থাকছে৷
ছবি: DW
প্রথম: সিরিয়া
সুন্নিপ্রধান দেশ সিরিয়ায় শিয়া, বিশেষ করে আলাউইট সম্প্রদায়ের লোকজন সহ খ্রিষ্টান, কুর্দ, ফিলিস্তিনি ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা হুমকির মুখে রয়েছে৷ আইএস, হিজবুল্লাহ ছাড়াও সিরিয়ার শাসকপন্থি গ্রুপ সাবিহা এ সব হুমকির অন্যতম কারণ৷ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ‘মাইনোরিটি রাইটস গ্রুপ ইন্টারন্যাশনাল’ হুমকি বলতে গণহত্যা, রাজনৈতিক হত্যা ও সহিংস দমননীতি বুঝিয়েছে৷
ছবি: Reuters/SANA
দ্বিতীয়: সোমালিয়া
সরকারের সঙ্গে আল-শাবাব জঙ্গি গোষ্ঠীর সংঘাত এখনও চলছে৷ আর এর শিকার হচ্ছে বান্টু (বেশিরভাগ খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বী) ও বেনাদিরি (বেশিরভাগ ইসলাম ধর্মাবলম্বী) গোষ্ঠীর মানুষজন৷
ছবি: picture-alliance/dpa/Y. Warsame
তৃতীয়: সুদান
দেশটির দারফুর অঞ্চলে বসবাসকারী নন-আরব মুসলিম সম্প্রদায়ের উপর খার্তুম সরকারের নিপীড়নের অভিযোগে দু’টি বিদ্রোহী গোষ্ঠী ২০০৩ সালে সরকারের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে৷ সেটি এখনও চলছে৷ ফলে দারফুরে বসবাসকারী ফুর, জাঘাওয়া, মাসালিট সহ অন্যান্য গোষ্ঠীর মানুষদের জীবন সংকটে রয়েছে৷
ছবি: GetttyImages/AFP/C. Lomodon
চতুর্থ: আফগানিস্তান
বিদেশি সৈন্য চলে যাবার পর সেখানে আবারও তালেবানের শক্তি বেড়েছে৷ ফলে হাজারা, পশতুন, তাজিক, উজবেক, তুর্কমেন, বেলুচি সহ অন্যান্য গোষ্ঠীর মানুষের উপর নির্যাতনের আশঙ্কা বাড়ছে৷
ছবি: Getty Images/AFP/Aref Karimi
পঞ্চম: ইরাক
দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ৬৫ শতাংশ শিয়া সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত৷ তারপরও সেখানে শিয়া গোষ্ঠীর লোকজনের জীবন বিপদমুক্ত নয়৷ সংকটে রয়েছে সুন্নি, কুর্দ, তুর্কমেন, খ্রিষ্টান, ইয়াজিদি, শাবাক, বাহাই, ফিলিস্তনি সহ অন্যান্যদের জীবনও৷
ছবি: Reuters/T. Al-Sudani
ষষ্ঠ: ডিআর কঙ্গো
স্থানীয় মায়ি-মায়ি মিলিশিয়া, উগান্ডা ও রুয়ান্ডার বিদ্রোহী এবং কাতাঙ্গান বিচ্ছিন্নতাবাদীদের কারণে মানুষের প্রাণ যাওয়া অব্যাহত আছে৷ ফলে সংকটে আছে হেমা, লেন্ডু, হুতু, লুবা, লুন্ডা, টুটসি, বাটওয়া সহ আরও কয়েকটি গোষ্ঠীর জনগণ৷
বৌদ্ধ জাতীয়তাবাদীদের হামলায় সংকটে রয়েছে ইসলাম ধর্মাবলম্বী রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের লোকজন৷ এছাড়া কচিন, কারেনি, কারেন, মন, রাখাইন, শান, চিন এবং ওয়া জাতির জনগণও ভালো নেই সেখানে৷
ছবি: Reuters
বাংলাদেশ, ভারতের অবস্থান
‘মাইনোরিটি রাইটস গ্রুপ ইন্টারন্যাশনাল’-এর তালিকায় বাংলাদেশ ৪১তম আর ভারত ৫৪তম অবস্থানে আছে৷ বাংলাদেশে আহমদিয়া, হিন্দু সহ অন্য ধর্মাবলম্বীরা এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসকারী উপজাতির লোকেদের জীবন হুমকির মুখে রয়েছে বলে জানানো হয়েছে৷ আর ভারতে আসামিজ, বোড়ো, নাগা, ত্রিপুরা সহ অন্যান্য উপজাতি এবং কাশ্মিরী, শিখ, মুসলিম ও দলিতরা হুমকির মুখে আছে৷ প্রতিবেদনটি পড়তে উপরে (+) চিহ্নে ক্লিক করুন৷
ছবি: DW
9 ছবি1 | 9
হ্যাঁ, অবশ্যই আমরা তুলেছি৷ কামাল হোসেন, আমিরুল ইসলাম ও মাহমুদুল ইসলাম সাহেব তখন আইনজীবীদের পক্ষ থেকে ঐ কমিটিতে গিয়েছিলেন৷ সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত সেই কমিটি তো তখন একমতই হলো যে, রাষ্ট্রধর্ম রাখা যাবে না৷ এই যে মামলাটা পেন্ডিং আছে, সেটাও তাদের বলা হয়েছে৷ সংবিধান সংশোধন কমিটি তো রাষ্ট্রধর্ম না রাখার পক্ষেই বক্তব্য দিয়েছে৷ এটা তো সিদ্ধান্তেই আছে৷ কিন্তু কিভাবে যেন অনেক কিছুই বদলে গেল৷
স্বৈরাচার ও সাম্প্রদায়িকতা প্রতিরোধ কমিটির এ ধরনের রিট আবেদন করার এখতিয়ার কি আছে?
অবশ্যই আছে৷ কারণ তারা সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ৷ শুধু সংগঠন হিসেবে নয়, তারা ব্যক্তি হিসেবেও ১৫ জন আবেদন করেছেন৷ ১৯৭২-এর মূল চেতনায় ফিরে যাওয়ার জন্য আবেদন করেছেন৷ রাষ্ট্রধর্ম থাকলে সংবিধানের মূল চেতনা ধ্বংস করে দেয়৷ আদর্শ, মূল্যবোধ আর থাকে না৷
সরকার বলছে, তারা ৭২-এর সংবিধানে ফিরে গেছে৷ কিন্তু সেই সংবিধানে তো রাষ্ট্রধর্ম ছিল না৷ পঞ্চদশ সংশোধনীতে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বহাল রাখা হয়েছে৷ এর প্রেক্ষিতে ৭২-এ ফিরে যাওয়ার যে কথা বলা হচ্ছে, তা কতটা যৌক্তিক?
এটা একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়৷ আমি মনে করি, এটা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থি, আদর্শের পরিপন্থি বক্তব্য দিচ্ছে সরকার৷ এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না৷
রাষ্ট্রে তো বিভিন্ন ধর্মের মানুষ বাস করে৷ সেখানে সংবিধানে কোনো ধর্মের অন্তর্ভুক্তির প্রয়োজন আছে কি?
আমরা যে বাংলাদেশ চেয়েছিলাম এবং বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে যে বাংলাদেশ সৃষ্টি হলো – সকল শহিদদের স্বপ্ন, যে সকল মুক্তিযোদ্ধা, মানে যারা যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন, তারা তো সকলে বলবেই যে, আমরা সেই চেতনা নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ করিনি৷ আমাদের বক্তব্য হচ্ছে, পাকিস্থানে এটা এসেছে জেনারেল জিয়াউল হকের সময়৷ আর বাংলাদেশে এটা নিয়ে আসল আরেকজন জেনারেল, একেবারে হুবহু, আর্টিকেল ২(এ)-তে৷ মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের সরকার এটা বহাল রাখবে, সেটা ১৬ কোটি মানুষের আশা-আকাঙ্খার একেবারেই পরিপন্থি৷
আপনি কিভাবে এই মামলার সঙ্গে সম্পৃক্ত হলেন?
১৯৮৮ সালে ঐ যে ১৫ জন শীর্ষ বুদ্ধিজীবী মামলাটা করল, আমার সৌভাগ্য হয়েছিল এর সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার৷ যখন পঞ্চম সংশোধনী বাতিল হলো, তখন অনেক বেশি উৎসাহিত হলাম৷ আমার মনে হয়, পঞ্চম সংশোধনী বাতিল হওয়ায় আমরা যা অর্জন করলাম, তা পরিপূর্ণ করতে হলে সংবিধানে কোনোভাবেই রাষ্ট্রধর্ম রাখা যাবে না৷
‘সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম রাখা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থি' – আপনি কি সুব্রত চৌধুরীর এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত? জানান মন্তব্যের ঘরে৷
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘পিউ রিসার্চ সেন্টার’ বিশ্বের সব দেশের সংবিধান বিশ্লেষণ করে দেখেছে, ৩০টি দেশে কেউ রাষ্ট্রপ্রধান হতে হলে তাঁকে নির্দিষ্ট একটি ধর্মের হতে হবে৷
ছবি: picture-alliance/ABACAPRESS/E. Vandeville
মুসলিম রাষ্ট্রপ্রধান
‘পিউ রিসার্চ সেন্টার’-এর বিশ্লেষণ বলছে, ১৭টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানকে মুসলমান হতে হবে৷ এগুলো হচ্ছে আফগানিস্তান, আলজেরিয়া, ব্রুনাই, ইরান, জর্ডান, মালয়েশিয়া, মালদ্বীপ, মৌরিতানিয়া, মরক্কো, ওমান, পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব, সোমালিয়া, সিরিয়া, টিউনিশিয়া ও ইয়েমেন৷
ছবি: Reuters/J. Roberts
ইন্দোনেশিয়া
বিশ্বের সবচেয়ে বেশি মুসলমানের বাস ইন্দোনেশিয়ায়৷ তবে সেদেশের সংবিধান বলছে, যিনি রাষ্ট্রপ্রধান হবেন তাঁকে অবশ্যই রাষ্ট্রের মতাদর্শে, যা পঞ্চশিলা নামে পরিচিত, বিশ্বাসী হতে হবে৷ ছবিতে ১৯৬৮ সালে দেশটির দ্বিতীয় প্রেসিডেন্ট হিসেবে সুহার্তোকে শপথ নিতে দেখা যাচ্ছে৷ পঞ্চশিলার অর্থ জানতে উপরের ‘+’ চিহ্নে ক্লিক করুন৷
ছবি: Public Domain
লেবানন
জনসংখ্যার প্রায় ৫৪ শতাংশ মানুষ মুসলিম৷ এর মধ্যে ২৭ শতাংশ সুন্নি ও বাকি ২৭ শতাংশ শিয়া৷ খ্রিষ্টান জনগণের সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৪০ শতাংশ৷ এর মধ্যে ২১ শতাংশ ম্যারোনিট ক্যাথলিক ও ৮ শতাংশ গ্রিক অর্থোডক্স৷ এবার বলুন তো রাষ্ট্রপ্রধানকে কোন ধর্মের হতে হবে? সংবিধান বলছে, অবশ্যই ম্যারোনিট ক্যাথলিক৷ আর প্রধানমন্ত্রীকে হতে হবে অবশ্যই সুন্নি মুসলমান৷ রাষ্ট্রপ্রধান খ্রিষ্টান হতে হবে এমন শর্ত আছে অ্যান্ডোরাতেও৷
ছবি: Getty Images/AFP/R. Haidar
রাজা বা রানিকে নির্দিষ্ট ধর্মের হতে হবে
যুক্তরাজ্য, ক্যানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড সহ কমনওয়েলথভুক্ত ১৬টি দেশের রাজা অথবা রানিকে (বর্তমানে যেমন রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ) অবশ্যই নির্দিষ্ট একটি ধর্মের হতে হবে৷ রানির পদ অলংকারিক হলেও তিনি সেসব দেশের রাষ্ট্রপ্রধান৷ ডেনমার্ক, নরওয়ে ও সুইডেন এর ক্ষেত্রেও একই শর্ত প্রযোজ্য৷
ছবি: Getty Images/AFP/C.Jackson
বৌদ্ধ রাষ্ট্রপ্রধান
এমন বিধান আছে দু’টি দেশে৷ ভুটান আর থাইল্যান্ডে৷ ছবিতে ভুটানের বর্তমান রাজা জিগমে খেসার নামগিয়েল ওয়াংচুক ও রানি গিয়ালতসুয়েন জেতসুন পেমা ওয়াংচুককে দেখা যাচ্ছে৷ পিউ রিসার্চ সেন্টারের প্রতিবেদনটি পড়তে উপরের ‘+’ চিহ্নে ক্লিক করুন৷
ছবি: Royal Office For Media, Kingdom of Bhutan
ধর্মীয় নেতাদের মানা
বলিভিয়া, মেক্সিকো ও এল সালভেদর সহ আটটি দেশের সংবিধান বলছে, ধর্মীয় নেতারা প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না৷ অন্য দেশগুলো হচ্ছে মিয়ানমার, কস্টা রিকা, হন্ডুরাস, নিকারাগুয়া ও ভেনিজুয়েলা৷ (প্রতীকী ছবি)