সমন্বিত আর্থিক উদ্যোগ চায় জি-টোয়েন্টি
৬ জুন ২০১০বিশ্বের ১৯টি দেশ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সমন্বয়ে গঠিত ‘জি-টোয়েন্টি' গোষ্ঠীর অর্থ মন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধানরা বৈঠক করেন দক্ষিণ কোরিয়ার পুসান শহরে৷ দু'দিনব্যাপী বৈঠকে মূল আলোচনা ছিল বিশ্ব আর্থিক ব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে৷
শনিবার সম্মেলন শেষে এক যৌথ ঘোষণায় জি-টোয়েন্টি প্রতিনিধিরা জানান, বিশ্ব অর্থ বাজারের অস্থিরতা রোধে সমন্বিত নীতি গ্রহণে সম্মত তাঁরা৷
একইসঙ্গে ইউরোপের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সমন্বিত উদ্যোগকেও সমর্থন জানিয়েছে জি-টোয়েন্টি৷ সেইসঙ্গে বর্তমানে গুরুতর আর্থিক সমস্যায় থাকা দেশগুলোকে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে করণীয় কাজগুলো দ্রুত সম্পাদনের আহ্বান জানানো হয় সম্মেলন থেকে৷ তবে, এক্ষেত্রে নির্দিষ্ট করে কোন দেশের নাম উল্লেখ করেননি প্রতিনিধিরা৷ এই প্রসঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থমন্ত্রী ইয়ুন জিয়ুং-হিউন বলেন, দক্ষিণ ইউরোপের সর্বাধুনিক ঘটনাবলি থেকে বাজেটে সমতা রাখার গুরুত্ব পুনরায় উপলব্ধি করা যায়৷ এছাড়া আস্থাজনক এবং প্রবৃদ্ধির পক্ষে উপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন৷ যেসব দেশ গুরুতর আর্থিক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন, তাদের বাজেট ঘাটতি কমানো আবশ্যক৷
এছাড়া, বিশ্ব অর্থনীতির নিরাময় প্রক্রিয়া প্রত্যাশার চেয়ে দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে বলে জানানো হয়েছে চূড়ান্ত ঘোষণায়৷ তবে, সাম্প্রতিক সময়ে শেয়ার বাজারের নিম্নমুখী আচরণ অশনি সঙ্কেত বলেও মত প্রতিনিধিদের৷ আর তাই, জি-টোয়েন্টির সদস্যরা আর্থিক ব্যবস্থা সংস্কারে বিশ্ব বাজারে আরো চাপ প্রয়োগে সম্মতি প্রকাশ করেন৷ শুধু তাই নয়, অর্থ ব্যবস্থায় আরো স্বচ্ছতা এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর শীর্ষ পদে ভালো প্রতিনিধিত্ব প্রয়োজন বলেও মত এই গোষ্ঠীর৷
অবশ্য, বিশ্বের আর্থিক বাজারগুলোর উপরে কর এবং ব্যাংক লেনদেনের উপর কর বসানোর এক প্রস্তাবে দ্বিমত পোষণ করেছেন জি-টোয়েন্টি প্রতিনিধিরা৷ মূলত, এই কর থেকে প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নিজস্ব ত্রাণ তহবিলে গড়ার চিন্তা করা হয়েছিল৷
প্রসঙ্গত, এই মাসের শেষ নাগাদ কানাডায় জি-টোয়েন্টি-র শীর্ষ বৈঠক বসবে৷ সেখানে আর্থিক বাজারের সংস্কারে উন্নত এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর মতামত নেয়া হবে, একইসঙ্গে এই সংস্কারের রাজনৈতিক দিক নিয়ে চলবে আলোচনা৷
প্রতিবেদন: আরাফাতুল ইসলাম
সম্পাদনা: অরুণ শঙ্কর চৌধুরী