1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান
খেলাধুলাঅস্ট্রেলিয়া

স্নায়ুক্ষয়ী থ্রিলারে নিউজিল্যান্ডকে ৫ রানে হারাল অস্ট্রেলিয়া

২৮ অক্টোবর ২০২৩

ধর্মশালায় অস্ট্রেলিয়া ট্রাভিস হেড ও ডেভিড ওয়ার্নারের ব্যাটে ভর করে ৩৮৮ রান তুলেছিল৷ সেই রান তাড়ায় তীরে এসেও তরী ভেড়ানো হলো না নিউজিল্যান্ডের৷ স্নায়ুক্ষয়ী ম্যাচে তাসমান সাগরের প্রতিবেশীদের কাছে কিউইরা হেরে গেল ৫ রানে৷

স্নায়ুক্ষয়ী ম্যাচে তাসমান সাগরের প্রতিবেশীদের কাছে কিউইরা হেরে গেল ৫ রানে৷ছবি: Ashwini Bhatia/AP Photo/picture alliance

আগের দিন দক্ষিণ আফ্রিকা-পাকিস্তান ম্যাচ দেখেছিল বিশ্বকাপের প্রথম থ্রিলার৷ পরের দিন ধর্মশালায় অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের ম্যাচে আরও একটি ‘পয়সা উসুল' রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের ম্যাচ৷ পৃথিবীর অন্যতম সুন্দর ক্রিকেট ভেন্যুতে হলো এই বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা ম্যাচ৷ যেখানে শেষ হাসিটি ছিল অস্ট্রেলিয়ার৷

কিন্তু হাসিটা হতে পারত নিউজিল্যান্ডের৷ শেষ ওভারেও তাদের আশা বেঁচে ছিল৷ দ্বিতীয় বলেই যখন স্টার্ক ওয়াইডসহ ৫ রান দিয়ে দিয়ে দিলেন, ৫ বলে নিউজিল্যান্ডের লক্ষ্য নেমে এলো ১৩ রানে৷ জিমি নিশাম এর আগেই ফিফটি করে ফেলেছেন, তার ওপরেই কিউইদের আশা৷ পরের তিন বলে দুই রান করে নিলেন ৬ রান, শেষ দুই বলে দরকার ৭ রান৷ কিন্তু দুই রান নিতে গিয়ে এবার রান আউট হয়ে গেলেন নিশাম৷ শেষ বলে দরকার ৬ রান, সেটা নিতে পারলেন না ম্যাট হেনরি৷ অস্ট্রেলিয়া পেল মহাস্বস্তির এক জয়৷

উইকেট শিকারের পর অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটারদের উল্লাস৷ছবি: Ashwini Bhatia/AP Photo/picture alliance

নিউজিল্যান্ড জিতলে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সেরা তো বটেই, ওয়ানডে ইতিহাসেরই অন্যতম সেরা এক রানতাড়া হয়ে থাকত এই ম্যাচ৷ ৩৮৮ রান তাড়া করে যে শুরু দরকার, মোটামুটি সেরকম শুরুই পেয়েছিল তারা৷ মিচেল স্টার্কের প্রথম ওভারেই দুই চার মেরে ডেভন কনওয়ে জানান দিচ্ছিলেন, নিউজিল্যান্ড এই পাহাড়সম লক্ষ্য দেখে ঘাবড়ে যায়নি৷ টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচেই সেঞ্চুরির পর কনওয়ের ব্যাট একটু নিশ্চুপই হয়েছিল৷ যখন মনে হচ্ছিল আজ বড় কিছু করবেন তখন স্টার্কের দারুণ ক্যাচে ফিরলেন হ্যাজলউডের বলে৷ ১৬ বলে ২৮ রানে আউট কনওয়ে, নিউজিল্যান্ড তখন ৭ ওভারেই তুলে ফেলেছে ৬০ রান৷ উইল ইয়াংও বড় করতে পারলেন না ইনিংস, এবারও স্টার্ক-হ্যাজলউড যুগলবন্দির শিকার হয়ে ফিরলেন ৩২ রানেই৷

টুর্নামেন্টে নিউজিল্যান্ডের সবচেয়ে ইনফর্ম দুই ব্যাটার জুটি বাঁধলেন এরপর৷ ড্যারিল মিচেল ও রাচীন রবীন্দ্রের জুটিতে রানও উঠতে শুরু করল দ্রুত৷ জাম্পাকে চার-ছয় মেরে মিচেল জানান দিচ্ছিলেন, অস্ট্রেলিয়ার কোনো বোলারকেই তিনি থিতু হতে দেবেন না৷ ফিফটিও পেয়ে গেলেন ২২ ওভারের মধ্যে৷ যখন দুজনের শতরানের জুটি প্রায় হয়ে গেছে তখন জাম্পা হানলেন পালটা আঘাত৷ এবার তাকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে মিচেল ক্যাচ দিলেন লং অনে, ৫১ বলে ৫৪ রানে শেষ হলো তার ইনিংস৷ টম ল্যাথাম এলেন, তখন রবীন্দ্র একটু ঝুঁকি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন৷ স্টার্ককে ছয় মেরে পৌঁছলেন ফিফটিতে, সিদ্ধান্ত নিলেন রান রেট আর বেশি বাড়তে দেবেন না৷

এর মধ্যে জাম্পাকে রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে ফিরলেন অধিনায়ক ল্যাথাম, কিন্তু রবীন্দ্র তখন দুর্দান্ত সব শটে কিউইদের আশা দেখাচ্ছেন পাহাড় টপকানোর৷ ম্যাক্সওয়েলকে ছয় মেরে পৌঁছলেন সেঞ্চুরিতে, বিশ্বকাপে তার দ্বিতীয় সেঞ্চুরি এলো মাত্র ৭৭ বলে৷ কে বলবে, মাত্র ২৩ বছর বয়সে প্রথম বিশ্বকাপ খেলতে এসেছেন ভারতীয় বংশোদ্ভুত এই কিউই? মার্টিন ব্রেসওয়েল ফিট থাকলে যার হয়তো বিশ্বকাপেই খেলা হতো না৷ বা নিয়মিত অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন ফিট থাকলে যার হয়তো টপ অর্ডারেই নামা হতো না৷

এর মধ্যে অবশ্য ১২ রান করে আউট হয়ে গেছেন গ্লেন ফিলিপ্স৷ কিন্তু নিশম আর রবীন্দ্র দলকে নিয়ে যাচ্ছিলেন গন্তব্যের দিকে৷ ৪০ ওভার শেষে নিউজিল্যান্ডের রান ৫ উইকেটে ২৯২৷ কী কাকতাল, অস্ট্রেলিয়ারও ৪০ ওভার শেষে ঠিক তা-ই ছিল৷ কিন্তু রান তাড়ার এই চাপ বেশিক্ষণ নিতে পারলেন না রবীন্দ্র, ১১৬ রান করে এক্সট্রা কাভারে কামিন্সের বলে ক্যাচ দিলেন লাবুশেনকে৷

এই বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের অন্যতম সেরা পারফর্মার স্যান্টনার এসে জাম্পাকে ছয় মারলেন, কিন্তু জাম্পা দেখালেন কেন তিনি এবারের আসরের অন্যতম সেরা বোলার৷ স্যান্টনারকে ফেরালেন ১৭ রানে৷ তখনও ৩৯ বলে ৬৯ রান দরকার ছিল নিউজিল্যান্ডের, তবে নিশাম দারুণ খেলে লক্ষ্যের কাছাকাছি চলে গিয়েছিলেন৷ শেষ পর্যন্ত তিনিও পারলেন না৷

এই বিশ্বকাপের যেরকম চিত্রনাট্য, ৩৮৮ তোলার পরেই আসলে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে যাওয়ার কথা৷ হেড আর ওয়ার্নার যা শুরু করেছিলেন, তার পর আসলে ৪০০ না হওয়াটাই বরং অপ্রত্যাশিত ছিল৷ প্রথম ওভারেই ম্যাট হেনরিকে দুই চার মেরে ওয়ার্নার নিজেদের বার্তাটা পরিষ্কার করে দিয়েছিলেন৷ তবে অস্ট্রেলিয়া স্টিমরোলার শুরু করেছে ইনিংসের তৃতীয় ওভার থেকে৷ হেনরির নো বলময় ওই ওভার থেকে হেড ও ওয়ার্নার মিলে নিয়েছিলেন ২২ রান৷

এরপর নিউজিল্যান্ডের বোলাররা স্রেফ উড়ে গেছেন৷ প্রথম ৬ ওভারের মধ্যে আসে ৬৭ রান, প্রথম ১০ ওভারে আসে ১১৮ রান৷ ওয়ানডে ইতিহাসেই প্রথম ১০ ওভারে এর চেয়ে বেশি রান করার রেকর্ড আছে মাত্র দুটি৷ আগে ফিফটি হয়েছে ওয়ার্নারের, খেলেছিলেন ২৮ বল৷ তবে হেড ছিলেন আরও বেশি আগ্রাসী, মাত্র ২৫ বলে ফিফটি পেয়ে গেছেন৷

দুজনের তাণ্ডব কতটা বেশি ছিল, সেটা বোঝা যাবে একটা তথ্যে- ইনিংসের ১৪ ওভারের আগের প্রতি ওভারেই অন্তত একটা চার বা ছয় হয়েছে৷ ওয়ার্নার-হেড দুজনেই যখন সেঞ্চুরির দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন, তখন মঞ্চে আসেন প্রথম ইনিংসে নিউজিল্যান্ডের নায়ক গ্লেন ফিলিপ্স৷ শুরু থেকেই দারুণ আঁটোসাঁটো বোলিং করছিলেন, ওয়ার্নারকে নিজের বলে ক্যাচ নিয়ে ফেরান ৮১ রানে৷

ওদিকে ৭০ ও ৭৫ রানে দুইবার জীবন পেয়ে হেড ৫৯ বলে পেয়ে গিয়েছিলেন সেঞ্চুরি৷ এই বিশ্বকাপে চোটের জন্য বাইরে থাকার পর আজই প্রথম নেমেছেন হেড, জানান দিয়েছেন কেন চোট থাকার পরও তাকে দলে রেখে দিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া৷ শেষ পর্যন্ত ১০৯ রানে তার ইনিংসও থেমেছে ফিলিপ্সের বলেই৷

এরপর রানের চাকাটা একটু শ্লথ হয়ে গেছে অসিদের৷ স্মিথ থাকেননি বেশিক্ষণ, মার্শ অবশ্য একদমই ছন্দে ছিলেন না৷ ৫১ বলে ৩৬ রানের মার্শের ইনিংসটা পরিস্থিতির সঙ্গেও ছিল বেমানান৷ পরে ১ রানে জীবন পেয়েও লাবুশেন ১৮ রানের বেশি করতে পারেননি৷ অস্ট্রেলিয়ার ৪০০ রানের একদম কাছেই মনে হওয়া চূড়াটা যখন ধওলাগিরির শিখরের পেছনে চলে যাচ্ছে, তখন এসেছিলেন ম্যাক্সওয়েল৷ নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে ম্যাচটা যেখান থেকে শেষ করেছিলেন, আজ শুরু করলেন সেখান থেকেই৷ স্যান্টনারের এক ওভারে দুই ছয় মারলেন, একটি ছয় আছড়ে পড়ল স্টেডিয়ামের ছাদে৷ শেষ পর্যন্ত ম্যাক্সওয়েলকে ২৪ বলে ৪১ রানের বেশি করতে দিলেন না নিশাম৷

মারকুটে মেজাজে থাকা ম্যাক্সওয়েলকে ২৪ বলে ৪১ রানের বেশি করতে দেননি নিশাম৷ছবি: Ashwini Bhatia/AP/picture alliance

কিন্তু ম্যাক্সওয়েল ব্যাটনটা দিয়ে যান ইংলিশ ও কামিন্সকে৷ শেষ দিকে কিউই ফিল্ডারদের একের পর এক ক্যাচ মিসের সুযোগ নিয়ে আরেক দফা ঝড় শুরু করেন দুজন৷ ২৮ বলে ৩৮ রান করে ইংলিশকে থামান বোল্ট৷ এক বল পরেই বোল্টের ডেলিভারিতে ১৪ বলে ৩৭ রানে এলবিডব্লু হয়ে যান কামিন্স৷ জাম্পাকে আউট করে সেই ওভারে আরেকটি উইকেট নিয়ে কার্যত অস্ট্রেলিয়ার ৪০০ রানের আশা শেষ করে দেন বোল্টই৷ আর পরের ওভারে স্টার্কও আউট হয়ে গেলে ৩৮৮ রানেই থেমে যায় অস্ট্রেলিয়া৷

সেই রানও মনে হচ্ছিল যথেষ্ট হবে না৷ কিন্তু শেষ পর্যন্ত চাপটা নিতে পারল না নিউজিল্যান্ড, দুই হার দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করা অস্ট্রেলিয়া জিতল টানা চার ম্যাচ৷ আর পর পর দুই ম্যাচ হেরে সেমিফাইনালের পথে কিছুটা হোঁচট খেল দারুণ শুরু করা নিউজিল্যান্ড৷

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

অস্ট্রেলিয়া: ৫০ ওভারে ৩৮৮ (হেড ১০৯, ওয়ার্নার ৮১; ফিলিপ্স ৩/৩৭, বোল্ট ৩/৭৭)

নিউজিল্যান্ড: ৫০ ওভারে ৩৮৩/৯ (রবীন্দ্র, নিশাম ৫৮, মিচেল ৫৪; জাম্পা ৩/৭৪)

ফল: অস্ট্রেলিয়া ৫ রানে জয়ী

স্কিপ নেক্সট সেকশন ডয়চে ভেলের শীর্ষ সংবাদ

ডয়চে ভেলের শীর্ষ সংবাদ

স্কিপ নেক্সট সেকশন ডয়চে ভেলে থেকে আরো সংবাদ

ডয়চে ভেলে থেকে আরো সংবাদ