হামে বাংলাদেশে এত মৃত্যু কেন?
১৮ এপ্রিল ২০২৬
বাংলাদেশে গত শুক্রবার পর্যন্ত সময়ে হামে আক্রান্ত হয়ে এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ২৪৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে৷ প্রায় আড়াই শতাধিক শিশুমৃত্যুর ঘটনা কেন ঘটেছে এবং তা ঠেকাতে কী ধরনের প্রস্তুতি থাকা প্রয়োজন ছিল তা জানতে কয়েকজন জনস্বাস্থ্যবিদের সঙ্গে কথা বলেছে ডয়চে ভেলে৷
এমন পরিস্থিতির জন্য এই বিশ্লেষকেরা বেশ কিছু কারণের কথা উল্লেখ করেছেন৷ যেমন, তাদের মতে, করোনার প্রাদুর্ভাবের পর মায়েদের ইমিউনিটি কমে গেছে৷ মৃত্যুবরণ করা শিশুদের ৬৬ শতাংশ হামের টিকা দেওয়া হয়নি৷ আর ৯ মাসের কম বয়সি শিশুদের মৃত্যুর কারণ হিসেবে তারা বলছেন, ৫৫ শতাংশ মা তার শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ান না, ফলে শিশুর ইমিউনিটি শক্তিশালী হচ্ছে না৷
সর্বশেষ পরিস্থিতি
বাংলাদেমে শুক্রবার হামে আক্রান্ত ও হামের উপসর্গ নিয়ে ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে৷ এর মধ্যে হামে আক্রান্ত তিনজনের মৃত্যু নিশ্চিত করেছে ডাক্তারেরা এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা৷
আক্রান্ত হয়েছে এক হাজার ১১৫ জন৷ আক্রান্তদের মধ্যে ১২৭ জনের হাম সনাক্ত হয়েছে এবং ৯৮৮ জন হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে৷
১৫ মার্চ থেকে শুক্রবার পর্যন্ত হামে ৩৭ জনের মৃত্যু এবং উপসর্গ নিয়ে ২১১ জনের মৃত্যু হয়েছে৷ হামের উপসর্গ নিয়ে ২১ হাজার ৪৬৭ জন দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে যায়৷ এর মধ্যে ১৩ হাজার ৮৯৮ জন শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে৷ ৩ হাজার ১৯২ শিশুর হাম সনাক্ত হয়েছে৷
বাংলাদেশে মৃত্যু এত বেশি কেন?
বাংলাদেশে মৃত্যু বেশি হওয়ার কারণ উল্লেখ করে জনস্বাস্থ্যবিদ ডা. লেলিন চৌধুরী ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আগে বুঝতে হবে, কেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা শিশুদের হামের টিকার প্রথম ডোজ ৯ মাস বয়সে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিল৷ গবেষণায় দেখা গেছে, একটি শিশু যদি মায়ের বুকের দুধ খায়, তাহলে ৬ মাস পর্যন্ত তার যে ইমিউনিটি তৈরি হবে তাতে টিকার প্রয়োজন নেই। এরপর থেকে ইমিউনিটি কমতে শুরু করে। সে হিসেবে, ৯ মাস নির্ধারণ করা হয়েছিল। এখন গবেষণায় দেখা গেছে, ৫৫ শতাংশ মা শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াচ্ছেন না। ফলে এই শিশুদের ইমিউনিটি তৈরি হচ্ছে না। আবার মারা যাওয়া শিশুদের ৬৬ শতাংশ টিকার কোনো ডোজই নেয়নি। ১৭ শতাংশ একটি ডোজ নিয়েছে। আবার করোনার পর আমাদের মতো দেশগুলোতে মায়েদের পুষ্টির স্বল্পতা রয়েছে। তারা পর্যাপ্ত পুষ্টিযুক্ত খাবার পাচ্ছেন না। এতে শিশু মৃত্যু বেড়ে যাচ্ছে।"
রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) সাবেক পরিচালক আবু মোহাম্মদ জাকির হোসেন ডয়চে ভেলেকে বলেন, "হাম সংক্রমণ করোনার চেয়েও দ্রুত হয়। টিকা দিলেও তাৎক্ষণিকভাবে সেটার কার্যকারিতা পাওয়া যায় না। দুই থেকে তিন সপ্তাহ সময় লাগে। বর্তমান সংকট মোকাবিলায় হাসপাতালের সেবাকে প্রান্তিক পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে। দেশে আগে হামে আক্রান্তদের মধ্যে প্রতি হাজারে তিনজনের মৃত্যু হতো। এবার তা ১০ জনে পৌঁছেছে। মৃত্যুহার বাড়ার কারণ উদ্ঘাটনে গুরুত্বের সঙ্গে বিশ্লেষণ করতে হবে।"
জনস্বাস্থ্যবিদ ডা. মোশতাক হোসেন ডয়চে ভেলেকে বলেন, "আমাদের দেশে মৃত্যুর হার বেশি হওয়ার কারণ আমাদের স্বাস্থ্যব্যবস্থা। এটা মাথাভারি ব্যবস্থা। সবাই শুধু স্পেশালাইজড হাসপাতাল বানাতে চায়। কিন্তু ইউনিয়ন ও গ্রাম পর্যায়ে যে স্বাস্থ্যব্যবস্থা থাকার কথা তার কিছুই নেই। যেগুলো আছে সেগুলোতে কোন ফাংশন নেই। ফলে কিছু হলেই ঢাকার বড় হাসপাতালগুলোতে রোগীদের লম্বা লাইন দিতে হয়। কিন্তু প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য ঢাকা শহরের ওয়ার্ডে কোন চিকিৎসা কেন্দ্র নেই। পাশাপাশি করোনার পর আর্থিকভাবে আমাদের অবস্থা খারাপ হচ্ছে। জীবন চালাতে আমাদের খাবারের সঙ্গে কম্প্রোমাইজ করতে হচ্ছে। এতে ভয়াবহ পুষ্টি ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। এসব কারণে শিশু বা মায়ের ইমিউনিটি কমে যাচ্ছে। আর মৃত্যুহার বাড়ছে।"
হাম নিয়ে ‘জরুরি পরিস্থিতি' ঘোষণার আহ্বান
দেশে চলমান হামের পরিস্থিতিকে 'মহামারি' হিসেবে ঘোষণা করে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস প্ল্যাটফর্ম ফর পিপলস হেলথ (ডিপিপিএইচ)।
শনিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে (ডিআরইউ) 'হামে শিশুমৃত্যু : জরুরি জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতিতে করণীয়' শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান ডিপিপিএইচের সঙ্গে যুক্ত জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসকেরা।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, কোনো রোগের বিস্তার যখন সময়, স্থান ও আক্রান্ত ব্যক্তির বিবেচনায় অস্বাভাবিক হয়, আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে যায় এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থা সেটাকে সামাল দিতে পারে না, সেটা জনস্বাস্থ্য জরুরি পরিস্থিতি। বর্তমানে হামের বিস্তার এই পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে ডিপিপিএইচ মনে করছে। তাই সরকারের কাছে 'জরুরি পরিস্থিতি' ঘোষণার আহ্বান জানাচ্ছে সংগঠনটি।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মুশতাক হোসেন বলেন, "মহামারি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সব কাজ করছে সরকার। চিকিৎসকদের ছুটি বাতিল আর নিরবচ্ছিন্ন সেবার মতো উদ্যোগ নিয়েছে। বাড়তি চিকিৎসকও নিয়োগ দিচ্ছে। শুধু আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি।"
সরকারকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সাবেক সভাপতি রশিদ-ই-মাহবুব বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত প্রান্তিক শিশুরা।
আর শিশুবিশেষজ্ঞ কাজী রকিবুল ইসলাম বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে শুধু হামের টিকা দেওয়া হয়নি এমন নয়, হাম-পরবর্তী শিশুদের রাতকানাসহ যেসব সমস্যা দেখা দিতে পারে, সেগুলো প্রতিরোধেও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় ডিপিপিএইচ কয়েকটি জরুরি উদ্যোগের দাবি জানিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অবিলম্বে সারা দেশে গণটিকাদান কর্মসূচি চালু করা। আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত শনাক্ত ও চিকিৎসার জন্য উপজেলা থেকে কেন্দ্রীয় পর্যায় পর্যন্ত স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা। টিকা নিয়ে সমাজে বিদ্যমান ভুল ধারণা আর গুজব মোকাবিলায় কার্যকর জনসচেতনতা কার্যক্রম চালু করা, শক্তিশালী রোগ নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং জরুরি স্বাস্থ্য পরিস্থিতি ঘোষণা করা।
৬ মাস বয়সিদের হামের টিকা দিচ্ছে সরকার
উদ্ভুত পরিস্থিতিতে সরকার ৬ মাস বয়সি শিশুদেরও হামের টিকা দেওয়া শুরু করেছে।
কিন্তু প্রশ্ন হঠাৎ করেই ৯ মাস থেকে ৬ মাসে নেমে যাওয়ার কারণ কি? এটা কি হামের প্রাদুর্ভাবের কারণে? নাকি স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, জনস্বাস্থ্যবিদ বা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কোন পরামর্শ নেওয়া হয়েছে?
জানতে চাইলে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) সহকারী পরিচালক হাসানুল মাহমুদ ডয়চে ভেলেকে বলেন, "হুট করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়েই ৬ মাসের শিশুদের হামের টিকা দেওয়া হচ্ছে।"
এখন যে টিকা দেওয়া হচ্ছে, সেটা কি নিয়মিত টিকার অংশ, নাকি অতিরিক্ত একটা ডোজ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে? জানতে চাইলে জনাব মাহমুদ বলেন, "এখন যে টিকা দেওয়া হচ্ছে সেটা অতিরিক্ত ডোজ। অর্থাৎ একটি শিশু ৯ মাসে যে হামের টিকা নেয় সেটা নেবে, আবার ১৫ মাসে যে দ্বিতীয় ডোজ নেয় সেটাও নেবে। এখন হামের প্রাদুর্ভাবের কারণে অতিরিক্ত একটা ডোজ দেওয়া হচ্ছে। তবে মাথায় রাখতে হবে, একটি ডোজ নেওয়ার পর ২৮ দিনের মধ্যে আরেকটি ডোজ নেওয়া যাবে না। এক মাস পার হলেই আরেক ডোজ দেওয়া যাবে।"
শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বব্যপাী বাড়ছে হাম
হাম শুধু বাংলাদেশই না, বরং যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা ও ইউরোপের দেশগুলোতেও আবার ফিরে আসতে শুরু করেছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ইতোমধ্যেই সতর্ক করে বলেছে, টিকাদানের হার কমে যাওয়ায় বিশ্বের কিছু অঞ্চলে আবার হাম রোগের পুনরুত্থান দেখা যাচ্ছে। চিকিৎসা বিষয়ক জার্নাল দ্য ল্যানসেট এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ এবং ২০২৫ সালে গত ২০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক হাম প্রাদুর্ভাব দেখা গেছে।
ফলে প্রশ্ন উঠছে, বাংলাদেশের মতো নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে টিকার ঘাটতির কারণে হাম প্রাদুর্ভাব পরিস্থিতি তৈরি হলেও উন্নত বিশ্ব কিংবা বিশ্বজুড়ে নানা দেশে হামে আক্রান্ত হওয়ার পরিমাণ বাড়ছে কেন?
জনস্বাস্থ্যবিদ ডা. লেলিন চৌধুরী ডয়চে ভেলেকে বলেন, "কোভিড মহামারির সময়ে সারাবিশ্বেই শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির ব্যাঘাতের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে টিকাবিরোধী প্রচারণাও বেড়েছে, যা হাম সংক্রমণ ফিরে আসার পথ তৈরি করেছে। অনেকেই তখন টিকাদান থেকে বিরত ছিলেন।"
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী টিকাদানের ঘাটতির কারণে ২০২৩ সালে ৫৭টি দেশে বড় বা গুরুতর হাম প্রাদুর্ভাব দেখা গেছে। এটি আগের বছরে ৩৬টি দেশের তুলনায় প্রায় ৬০ শতাংশ বেশি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কার্যক্রমের আওতাধীন আফ্রিকান, পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয়, ইউরোপীয়, দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় এবং পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে আক্রান্তের সংখ্যায় ব্যাপক বৃদ্ধি দেখা গেছে। এই প্রাদুর্ভাবের প্রায় অর্ধেকই দেখা গেছে আফ্রিকা অঞ্চলে।
দ্য ল্যানসেট গত মাসে 'গ্লোবাল রিসার্জেন্স ইন মিজলস' শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়েছে, হাম রোগের সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা ২০০০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে কমলেও, সাম্প্রতিক বৈশ্বিক প্রাদুর্ভাব এই রোগ নির্মূলের ক্ষেত্রে অর্জিত অগ্রগতিকে পিছিয়ে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ২০২৫ সালের ২৮ নভেম্বর যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল যেখানে বলা হয়েছিল, ২০০০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে সারা বিশ্বে হাম রোগীর আনুমানিক সংখ্যা ৭১ শতাংশ কমে ৩৮ মিলিয়ন (তিন কোটি ৮০ লাখ) থেকে ১১ মিলিয়নে (এক কোটি ১০ লাখ) নেমে এসেছে। একই সময়ে, হামজনিত মৃত্যুর সংখ্যা ৮৮ শতাংশ কমে সাত লাখ ৭৭ হাজার থেকে ৯৫ হাজারে দাঁড়ায়। চিকিৎসা সাময়িকী ল্যানসেট বলছে, এই অগ্রগতি মূলত দুই ডোজের হাম টিকাদানের হার বৃদ্ধির সঙ্গে সম্পর্কিত।
প্রথম ডোজের টিকার বৈশ্বিক কভারেজ ২০০০ সালের ৭১ শতাংশ থেকে ২০২৪ সালে ৮৪ শতাংশে উন্নীত হয়। পাশাপাশি টিকার দ্বিতীয় ডোজের কভারেজ ওই একই সময়ে ১৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ৭৬ শতাংশে পৌঁছায়। যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা সিডিসি বলছে, ২০০০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে হাম নির্মূল ঘোষণা করা হলেও, টিকা না নেওয়া আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীদের কারণে দেশটিতে এখনো হাম রোগের সংক্রমণ ও প্রাদুর্ভাব দেখা যাচ্ছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে হাম সংক্রমণ দেখা দিয়েছে এমন দশটি দেশের একটি তালিকা প্রকাশ করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যেখানে শীর্ষে ছিল ভারত। ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ের মধ্যে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এ তালিকা করার কথা জানায় সংস্থাটি।
এতে ওই ছয় মাসে ভারতে ১২ হাজার ১৩৫, অ্যাঙ্গোলায় ১১ হাজার ৯৪১, ইন্দোনেশিয়ায় আট হাজার ৮৯২, ইয়েমেনে আট হাজার ৫০৭, পাকিস্তানে সাত হাজার ৫২৭, ক্যামেরুনে পাঁচ হাজার ৮৮, মেক্সিকোতে চার হাজার ৬৩৬, সুদানে চার হাজার ৭১, কাজাখস্থানে তিন হাজার ৮২৬টি হামের ঘটনার কথা বলা হয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১১ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ফোকাল পয়েন্ট (এনএফপি) বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে দেশটিতে হাম প্রাদুর্ভাব সম্পর্কে অবহিত করে। ২০২৫ সালের পহেলা জানুয়ারি থেকে ২০ মার্চ পর্যন্ত মোট ১৭টি অঙ্গরাজ্যে ৩৭৮টি হাম রোগের ঘটনা রিপোর্ট করা হয়েছে।