1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

১০ বছরের শিশু-ধর্ষণ মামলার আসামি স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা

১৬ জুন ২০২৬

বাংলাদেশে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে ১০ বছরের এক শিশু অন্তঃসত্ত্বা হয়েছে৷ এ ঘটনায় স্থানীয় এক স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা হয়েছে বলে জানিয়েছে ডয়চে ভেলের কন্টেন্ট পার্টনার প্রথম আলো৷

প্রতীকী ছবি
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে ১০ বছরের এক শিশু অন্তঃসত্ত্বা হয়েছে৷ এ ঘটনায় স্থানীয় এক স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা হয়েছে৷ছবি: Ute Grabowsky/photothek/picture alliance

মামলাটি গত ২ মে করা হলেও অভিযুক্ত ওই নেতাকে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ৷ এ নিয়ে মেয়েটির পরিবার ক্ষোভ প্রকাশ করেছে৷

অভিযুক্ত আসামির নাম মোহন তালুকদার (২৫)৷ তিনি মোহনগঞ্জ পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক পদে রয়েছেন৷ মোহন তালুকদারের দলীয় পদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সোহেল রানা৷ মামলায় শিশুটিকে কিছুটা মানসিক প্রতিবন্ধী বলে উল্লেখ করা হয়েছে৷

স্থানীয় বাসিন্দা, এজাহার, পুলিশ ও পরিবারের সদস্যরা প্রথম আলোকে জানায়, শিশুটির বাবা জীবিকার তাগিদে দেশের বিভিন্ন এলাকায় দিনমজুরের কাজ করেন, আর মা এলাকার বিভিন্ন বাসাবাড়িতে কাজ করেন৷

অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৯ ডিসেম্বর দুপুরে শিশুটির মা কাজের জন্য বাইরে গেলে ঘরে শিশুটি ও তার দুই ছোট বোন ছিল৷ এ সময় প্রতিবেশী মোহন তালুকদার ঘরে প্রবেশ করে শিশুটিকে ধর্ষণ করে৷ অভিযোগে বলা হয়, বিষয়টি কাউকে জানালে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়ায় শিশুটি ভয়ে ঘটনাটি দীর্ঘদিন গোপন রাখে৷ মেয়েটি বর্তমানে প্রায় সাড়ে ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা৷

ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, চলতি বছরের ১২ মার্চ শিশুটি অসুস্থ বোধ করছিল৷ তখন তার মধ্যে শারীরিক পরিবর্তন দেখা যায়৷ পরে মেয়েকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তার মা বিষয়টি জানতে পারেন৷ পরের দিন পৌর শহরে একটি ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হয় মেয়েটিকে৷ সেখানে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পরীক্ষা–নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসক জানান, শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা৷ এ নিয়ে আইনি পদক্ষেপ নিতে পরিবারটি মোহনগঞ্জ থানায় গেলে পুলিশ আদালতে অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেয় বলে দাবি ভুক্তভোগী পরিবারের৷

পরে শিশুটির মা বাদী হয়ে গত ২৮ এপ্রিল আদালতে অভিযোগ করেন৷ আদালত মোহনগঞ্জ থানাকে মামলাটি রেকর্ড করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন৷ সেই নির্দেশনার পর ২ মে ধর্ষণের অভিযোগে মামলাটি রেকর্ড করা হয়৷

শিশুটির মা জানান, মামলা হওয়ার পর থেকেই অভিযুক্ত মোহন তালুকদার গা ঢাকা দিয়েছেন৷ দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি৷

শিশুটির মা বলেন, ‘‘আমরা গরিব মানুষ৷ আমার স্বামী বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে দিনমজুরের কাম করে৷ আমি মানুষের বাসায় কাম করে সংসার চালাই৷ আমার মেয়েটা ছোট মানুষ, কিছুই বোঝে না৷ তার জীবনটা নষ্ট করে দেওয়া হইছে৷ মামলা করছি, কিন্তু আসামি এখনো ধরা পড়ে না৷ আমার মেয়ের যে সর্বনাশ করছে, আমি তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই৷''

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাফিজুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘‘এজাহারে উল্লেখিত আসামিকে গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত রয়েছে৷ আশা করা যায়, দ্রুত তাকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে৷''

এ বিষয়ে পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘‘অভিযুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে৷ আশা করা যাচ্ছে, দ্রুত তাকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে৷''

এসিবি/ জেডএইচ (প্রথম আলো)

স্কিপ নেক্সট সেকশন ডয়চে ভেলের শীর্ষ সংবাদ

ডয়চে ভেলের শীর্ষ সংবাদ

স্কিপ নেক্সট সেকশন ডয়চে ভেলে থেকে আরো সংবাদ

ডয়চে ভেলে থেকে আরো সংবাদ