বাংলাদেশ সীমান্তে ২৪ ঘণ্টায় ১০টি ‘পুশ-ইন' ঠেকানোর দাবি
৪ জুন ২০২৬
বাংলাদেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় ২৪ ঘণ্টায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর ‘অবৈধভাবে' মানুষ পাঠানোর (পুশ-ইন) ১০টি পৃথক চেষ্টা ঠেকানোর কথা জানিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)৷
২৪ ঘণ্টায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর ‘অবৈধভাবে’ মানুষ পাঠানোর (পুশইন) ১০টি পৃথক চেষ্টা ঠেকানোর কথা জানিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)৷ছবি: Arafatul Islam/DW
বিজ্ঞাপন
একই সঙ্গে এ ধরনের সম্ভাব্য ‘পুশ-ইন' প্রতিরোধে সীমান্ত এলাকায় বিজিবি গোয়েন্দা নজরদারিসহ টহল কার্যক্রম জোরদার করেছে বলেও জানিয়েছে তারা৷
আজ বৃহস্পতিবার বিজিবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়৷
ঘটনগুলোর বিষয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঝিনাইদহে বিজিবির মহেশপুর ব্যাটালিয়নের (৫৮ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ যাদবপুর সীমান্ত এলাকা দিয়ে চার থেকে পাঁচ ব্যক্তিকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করা হয়৷ বিজিবির টহল দল বাধা দেয়৷ বিজিবির দৃঢ় অবস্থানের মুখে তারা ভারতের অভ্যন্তরে ফিরে যেতে বাধ্য হন৷
ঝিনাইদহের মহেশপুরের সামন্তা বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের একটি প্রিজন ভ্যানে করে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ জনকে আনা হয়৷ সীমান্তের গেট খুলে তাদের বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হয়৷ বিজিবির টহল দল ও স্থানীয় জনসাধারণের প্রতিরোধের মুখে ওই ব্যক্তিদের আবার ভ্যানে তুলে অন্য জায়গায় সরিয়ে নিতে বাধ্য হয় বিএসএফ৷
সীমান্তে কথিত বাংলাদেশিদের হস্তান্তরের খবরে বিজিবি যা বলছে
03:47
This browser does not support the video element.
বিজিবির খুলনা ব্যাটালিয়নের (২১ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ যশোরের গোগা ও রুদ্রপুর সীমান্ত এলাকায় কয়েকজন নারী-পুরুষকে পুশ-ইন করার উদ্দেশ্যে অবস্থান করতে দেখা যায়৷ বিজিবির প্রতিরোধমূলক তৎপরতায় বিএসএফ তাদের সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়৷
জয়পুরহাট ব্যাটালিয়নের (২০ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ কয়া ও বাসুদেবপুর সীমান্তের বিপরীতে ভারতীয় অংশে প্রায় ১০ ব্যক্তিকে একত্র করে পুশ-ইন করার প্রস্তুতির তথ্য পাওয়া যায়৷ বিজিবি তাৎক্ষণিক সতর্কতামূলক প্রস্তুতি গ্রহণ করে৷ গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোয় বিএসএফের এই প্রয়াস ব্যর্থ হয়৷
চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়নের (৫৩ বিজিবি) আওতাধীন সীমান্তের বিপরীতে বিএসএফ ক্যাম্পের কাছের তিনটি হোল্ডিং সেন্টারে এসআইআর তালিকা থেকে বাদ পড়া চারজন মুসলমানকে বাংলাদেশে পুশ-ইন করার উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছে বলে গোয়েন্দাসহ অন্য সূত্রে জানা যায়৷ বিজিবি সেখানে কঠোর অবস্থান ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ায়৷
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তকে বিশ্বের অন্যতম প্রাণঘাতী সীমান্ত হিসেবে বিবেচনা করা হয়৷ এই সীমান্ত হত্যা বন্ধের নানা উদ্যোগের কথা শোনা গেলেও তার কার্যকারিতা দেখা যাচ্ছে না৷ বাংলাদেশ ও ভারতের কয়েকজন নাগরিক জানিয়েছেন সমাধান৷
ছবি: DW
‘সীমান্তবাসীদের একে-অপরের দেশে আসা-যাওয়ার সহজ পন্থা দরকার’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের শিক্ষক সিলভিয়া নাজনীন মনে করেন, ‘‘বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে বসবাস করা জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রা ও ইতিহাস আমাদের উপলব্ধি করা প্রয়োজন আছে৷ সীমান্ত মাত্রই এই মানুষদের দীর্ঘ ইতিহাস ও জীবনযাত্রার ধরন সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় না৷ ফলে সীমান্তের এই মানুষদের একে-অপরের দেশে আসা-যাওয়ার ক্ষেত্রে পাসপোর্টের বাইরেও আরো সহজ কোনো পন্থা ব্যবহার করা যেতে পারে৷’’
ছবি: DW
‘পারস্পরিক মর্যাদার ভিত্তিতে সম্পর্ক স্থাপন জরুরি’
ভারতীয় সাংবাদিক অর্ক ভাদুড়ি বলেন, ‘‘ফেলানি খাতুন থেকে স্বর্ণা দাস - পাখি শিকারের মতো মানুষ মারার এই ধারাবাহিকতা বন্ধ হওয়া জরুরি৷ সীমান্তে যদি কোনো বেআইনি কাজ হয়, তাহলে সম্পৃক্তদের গ্রেফতার করা যেতে পারে৷ দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী নিজ নিজ দেশ থেকে অন্য দেশে যাতে কেউ অবৈধভাবে ঢুকে না পড়ে তা নিশ্চিত করুক৷ দুই দেশের মধ্যে সমতার ভিত্তিতে, পারস্পরিক মর্যাদার ভিত্তিতে সম্পর্ক স্থাপন দরকার৷’’
ছবি: privat
‘শান্তিপূর্ণ সমাধানই একমাত্র পথ’
উদ্যোক্তা রুবাইয়া সুলতানা বলেন, ‘‘সীমান্ত হত্যা মানবাধিকার লঙ্ঘনের একটি গুরুতর বিষয়, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়৷ এটি বন্ধে কূটনৈতিক উদ্যোগ, শক্তিশালী সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা জরুরি৷ শান্তিপূর্ণ সমাধানই হতে পারে একমাত্র পথ৷ আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে সীমান্ত নজরদারিও বাড়ানো যেতে পারে৷ সবচেয়ে বেশি জরুরি হলো উভয় দেশের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস ও সহযোগিতা বৃদ্ধি করা৷’’
ছবি: DW
‘বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়তে হবে’
নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না মনে করেন, ‘‘সীমান্তে হত্যাযজ্ঞ বন্ধ করতে হলে উভয় দেশেরই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে৷ আমরা তো কেউই প্রতিবেশী পাল্টাতে পারব না, তাই আমাদের বন্ধুত্বপূর্ণ এবং সমতার মাধ্যমে সম্পর্ক উন্নয়ন করতে হবে যেন এ ধরনের হত্যাযজ্ঞ না ঘটে৷ পাশাপাশি দুই সরকারের মধ্যে যে সকল আলোচনা হয় সেগুলোর যাতে মিনিংফুল ফলাফল আসে৷’’
ছবি: DW
‘সীমান্ত হত্যা রাজনৈতিক সমস্যা’
সংগীতশিল্পী ফারজানা ওয়াহিদ বলেন, ‘‘সীমান্ত হত্যা রাজনৈতিক সমস্যা, দুই রাষ্ট্রে যারা দায়িত্বে আছেন তাদের মধ্যে আলোচনা করতে হবে, দুই দেশের মোড়লরা যদি ঠিক থাকে তাহলে হয়তো হত্যাযজ্ঞ কমে আসবে৷ পাশাপাশি বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দুই দেশের নাগরিকদের মধ্যে বন্ধন তৈরি করতে হবে৷ তাহলে যে বন্ধন তৈরি হবে সে বন্ধনের কারণে হত্যা করাটা কঠিন হবে৷’’
ছবি: DW
‘মানুষ মারা পাপ’
ঢাকায় সিএনজি চালক মোহাম্মদ ইব্রাহিম সরদার মনে করেন, ‘‘সীমান্তে মানুষ মেরে ফেলা অন্যায়, অবৈধ কাজ৷ মানুষ মারা পাপ৷ এ ধরনের সমস্যা সমাধানের জন্য সাধারণ নাগরিকরা কিছুই করতে পারবে না৷ দুই দেশের সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে৷ সীমান্তে যদি কোনো দেশের নাগরিক অন্যায় করে তাহলে তাকে যেন না মেরে জেল-জরিমানা করা হয়, কোনোভাবে হত্যা করা না হয়৷ এ ব্যাপারে দুই দেশের সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে৷’’
ছবি: DW
‘প্রতিটি রাষ্ট্রকে ভূমিকা নিতে হবে’
ভারতীয় অভিনেত্রী ও চলচ্চিত্র নির্মাতা অপরাজিতা ঘোষ বলেন, ‘‘আমি শুধু এটুকুই বলবো কোনোভাবে কোনো হত্যা, কোনো মৃত্যু কাম্য নয়৷ আমি কখনোই এ ধরনের হত্যা সমর্থন করি না এবং করবও না৷ কিন্তু এক্ষেত্রে যে-কোনো দেশের নিরাপত্তা যেহেতু নির্ভর করছে, সেখানে আমাদের প্রতিটা রাষ্ট্রকে ভূমিকা নিতে হবে যাতে এরকম হত্যা কমতে কমতে একেবারে শূন্যতে এসে পৌঁছায়৷’’
ছবি: privat
‘সীমান্ত হত্যা শত্রুতা তৈরির জন্য’
ঢাকায় হকার আবুল কাশেম বলেন, ‘‘সীমান্তে মানুষ মেরে ফেলা হচ্ছে এক ধরনের শত্রুতা তৈরি করার জন্য৷ এজন্য আমাদের দুই দেশের সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া উচিত যেন শত্রুতা না বাড়ে৷’’
ছবি: DW
‘জোরালো তৎপরতা প্রয়োজন’
গণমাধ্যম কর্মী নুসরাত জাহান জেরি বলেন, ‘‘সীমান্ত হত্যা শুধু রাজনৈতিক ইস্যু নয়, এটি মানবাধিকার, সার্বভৌমত্ব ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের নিষ্ঠুর উদাহরণ৷ জোরালো কূটনৈতিক তৎপরতা, প্রয়োজনে চাপ প্রয়োগ ও সীমান্ত চুক্তির কঠোর বাস্তবায়নই এ হত্যাকাণ্ড বন্ধের উপায়৷
ছবি: DW
‘প্রশাসন দুর্বল বলে এত মানুষ মারা যাচ্ছে সীমান্তে’
ঢাকায় অটোচালক মো. সোহান বলেন, ‘‘বাংলাদেশের প্রশাসন দুর্বল বলে আমাদের দেশের এত মানুষ সীমান্তে মারা যাচ্ছে৷ প্রশাসনকে এটা প্রতিরোধ করতে হবে৷ আমাদের সীমান্তে কোনো নাগরিক মারা গেলে প্রশাসন কোনো প্রতিবাদ করতে পারে না, কারণ আমাদের প্রশাসনে লোকবল কম, সীমান্তের নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য প্রশাসনের লোক বাড়াতে হবে৷ আমাদের সরকারের উচিত ১০০ শতাংশের উপরে উদ্যোগ নেয়া উচিত যাতে আমাদের দেশের জনগণ না মারা যায়৷’’
ছবি: DW
‘বাংলাদেশের উচিত আন্তর্জাতিক আদালতে যাওয়া’
ফটোসাংবাদিক পারভেজ আহমদ রনি বলেন, ‘‘ভারতের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেয়ার পরও যখন এই হত্যা বন্ধ হয় না তখন এটা একটা মিথ্যা প্রতিশ্রুতি মনে হয়, আর এর পেছনে কোনো রাজনীতি আছে সেটা পরিষ্কার হয়৷ সীমান্ত হত্যা বন্ধে দুই দেশের সীমান্তের মানুষের জীবনকে ভেবে কোনো উদ্যোগ নেয়া জরুরি৷ এই বিচারবহির্ভূত সীমান্ত হত্যার বিচার চাওয়ার জন্য বাংলাদেশের উচিত আন্তর্জাতিক আদালতে যাওয়া৷’’
ছবি: DW
11 ছবি1 | 11
ঠাকুরগাঁও ব্যাটালিয়নের (৫০ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ হরিপুর সীমান্তের বিপরীতে বিএসএফের কাকরমনি ক্যাম্পের টহল দল দুই বাংলাদেশিকে আটক করে হেফাজতে রেখেছে বলে তথ্য পাওয়া যায়৷ এ বিষয়ে বিএসএফের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত বিজিবির সঙ্গে কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ হয়নি৷
পঞ্চগড় ব্যাটালিয়নের (১৮ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ রওশনপুর সীমান্তে বিএসএফ এক ব্যক্তিকে পুশ-ইন করে৷ স্থানীয় জনগণ তাকে আটক করে বিজিবিকে জানান৷ বিজিবি ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে৷ পরে তাকে ভারতের অভ্যন্তরে ফেরত পাঠানো হয়৷
চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ সীমান্তের বিপরীতে ভারতের মালদাহ জেলার ইংলিশ বাজার থানার চন্দনপার্ক নামের স্থানে ভারতীয় পুলিশ স্থাপিত একটি হোল্ডিং সেন্টারে আটক ২২ জনকে পুশ-ইন করার লক্ষ্যে বিএসএফের কাছে হস্তান্তরের তথ্য পাওয়া যায়৷ বিজিবি সেখানে কড়া নজরদারি অব্যাহত রেখেছে৷
ভারত ও বাংলাদেশের দুটি সংস্থার হিসেব বলছে, ভারতীয় সীমান্তরক্ষা বাহিনী বিএসএফ-এর হাতে দুই দেশের মানুষই প্রাণ হারাচ্ছেন৷
ছবি: S. Rahman/Getty Images
বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পরিসংখ্যান
২০১৯ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল সংসদকে জানান, ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ১০ বছরে সীমান্তে বিএসএফের হাতে ২৯৪ জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন৷
ছবি: bdnews24.com
বছরওয়ারি সংখ্যা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তখন আরো জানান, ২০০৯ সালে ৬৬ জন, ২০১০ সালে ৫৫, ২০১১ সালে ২৪, ২০১২ সালে ২৪, ২০১৩ সালে ১৮, ২০১৪ সালে ২৪, ২০১৫ সালে ৩৮, ২০১৬ সালে ২৫, ২০১৭ সালে ১৭ এবং ২০১৮ সালে তিনজন হত্যার শিকার হন৷
ছবি: S. Rahman/Getty Images
শেষ দুই বছর
বেসরকারি মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে বিএসএফ গুলি করে ৪৩ জন বাংলাদেশিকে হত্যা করে৷ আর ২০২০ সালে ৪২ জন গুলিতে প্রাণ হারান৷ এছাড়া নির্যাতনে মারা যান ছয় জন৷
ছবি: S. Rahman/Getty Images
ভারতীয় নাগরিক হত্যা
ভারতের মানবাধিকার সংস্থা ‘বাংলার মানবাধিকার সুরক্ষা মঞ্চ’ (সংক্ষেপে মাসুম) বলছে, ২০১১ সাল থেকে এ পর্যন্ত তারা পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত এলাকায় বিএসএফ-এর হাতে নিহত অন্তত ১০৫টি হত্যার তদন্ত করেছে৷ প্রকৃত সংখ্যা সম্ভবত আরো বেশি বলে মনে করে মাসুম৷
ছবি: AP
নির্দেশের পরও হত্যা বন্ধ হয়নি
সীমান্ত হত্যা নিয়ে দশ বছর আগে ‘ট্রিগার হ্যাপি’ নামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল এইচআরডাব্লিউ৷ এর প্রতিক্রিয়ায় তখন ভারত সরকার বলেছিল, তারা অবৈধভাবে সীমান্ত পারাপার রুখতে বিএসএফকে প্রাণঘাতী অস্ত্রের পরিবর্তে রাবার বুলেট ব্যবহারের নির্দেশ দেবে৷ কিন্তু ঐ নির্দেশের পরও হত্যা, নির্যাতন বন্ধ হয়নি বলে মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন এইচআরডাব্লিউর দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক পরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলি৷
ছবি: Human Rights Watch
‘ভারত সরকারের ব্যর্থতা দায়ী’
দোষী নিরাপত্তা কর্মীদের বিচারের আওতায় আনতে ভারত সরকারের ব্যর্থতার কারণে সীমান্তের হতদরিদ্র ও অসহায় মানুষেরা নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে ঐ বিবৃতিতে মন্তব্য করেছেন মীনাক্ষী গাঙ্গুলি৷ ছবিতে পশ্চিমবঙ্গের এক বাজারে ট্রাকে গরু তুলতে দেখা যাচ্ছে৷ এভাবে গরুগুলো সীমান্তে নিয়ে যাওয়া হবে৷ ছবিটি ২০১২ সালে তোলা৷
ছবি: Shaikh Azizur Rahman
ভারতকে তদন্তের আহ্বান
এইচআরডাব্লিউ ৯ ফেব্রুয়ারি এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ সীমান্তে বিএসএফ-এর বিরুদ্ধে নতুন করে ওঠা হত্যা ও নির্যাতনের অভিযোগ তদন্ত করতে ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে৷
ছবি: Getty Images/AFP/J. Macdougall
আলোচিত হত্যা
২০১১ সালের জানুয়ারিতে বিএসএফের গুলিতে প্রাণ হারানো ১৫ বছর বয়সি বাংলাদেশি কিশোরী ফেলানী খাতুনের কাঁটাতারে ঝুলে থাকা লাশ আলোচনার জন্ম দিয়েছিল৷ ২০১৩ ও ২০১৫ সালে বিএসএফের বিশেষ আদালতে দুই দফা বিচার হয়৷ এরপর বিএসএফের অভিযুক্ত কনস্টেবলকে খালাস দেয়া হয়৷ এ মামলায় নতুন তদন্ত শুরুর একটি আবেদন এখন ভারতের সুপ্রিম কোর্টে ঝুলে আছে৷
ছবি: picture alliance/Demotix
8 ছবি1 | 8
সিলেট ব্যাটালিয়নের (৪৮ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ উৎমাছড়া সীমান্ত এলাকায় সন্দেহভাজন দুই ব্যক্তিকে স্থানীয় জনগণ আটক করেন৷ তাদের বিজিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়৷ যাচাই-বাছাই শেষে তাদের ভারতীয় নাগরিক হিসেবে শনাক্ত করা হয়৷ পরে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাদের ভারতে ‘পুশ-ব্যাক' করা হয়৷
এ ছাড়া নেত্রকোনা ব্যাটালিয়নের (৩১ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ কচুগড়া সীমান্তের বিপরীতে ভারতের আসাম রাজ্যের মহাদেব থানার বলিশী গীতারাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৫-২০ জনকে বাংলাদেশে পুশ-ইন করার উদ্দেশ্যে একত্র করার তথ্য পাওয়া যায়৷ সীমান্তের একটি অংশে প্রাকৃতিক কারণে কাঁটাতারের বেড়া না থাকায় এলাকাটি দিয়ে পুশইন করার আশঙ্কা বিবেচনায় বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে৷
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিজিবি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানাচ্ছে, সীমান্ত দিয়ে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে ঢুকতে দেওয়া হবে না৷ আন্তর্জাতিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বিদ্যমান আইন ও দ্বিপক্ষীয় সমঝোতার পরিপন্থী যেকোনো পুশ-ইন করার প্রচেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে৷ সীমান্তে বিজিবির গোয়েন্দা নজরদারি, টহল ও অপারেশনাল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে৷ দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষায় বিজিবি সর্বদা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ৷ তারা যে-কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে৷
বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশ মাত্র দুটি৷ ভারত আর মিয়ানমার৷ কিন্তু ভারতকে ঘিরে রেখেছে মোট সাতটি দেশ৷ অবাক হলেন? সবচেয়ে বেশি দেশের সঙ্গে সীমান্ত ভাগাভাগি করাদের তালিকায় কিন্তু ভারতও নেই৷ কারা আছে? দেখুন ছবিঘরে...
১১. জাম্বিয়া
আফ্রিকার এই দেশটিকে ঘিরে রেখেছে মোট ৮টি দেশ- ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো, অ্যাঙ্গোলা, মালাউই, মোজাম্বিক, তাঞ্জানিয়া, নামিবিয়া, জিম্বাবুয়ে এবং বৎসোয়ানা৷ সবচেয়ে বেশি প্রতিবেশী আছে এমন দেশগুলোর তালিকায় তারা আছে ১১ নম্বরে৷
জাম্বিয়া আর তুরস্কের মতো তাঞ্জানিয়ার প্রতিবেশী দেশও আটটি৷ সেই আটটি দেশ হলো কেনিয়া, বুরুন্ডি, উগান্ডা, ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গো, জাম্বিয়া, মালাউই, মোজাম্বিক এবং রুয়ান্ডা৷
ছবি: DW/N. Quarmyne
৮. সার্বিয়া
ইউরোপের দেশ সার্বিয়াকেও ঘিরে রেখেছে আটটি দেশ- রোমানিয়া, হাঙ্গেরি, ক্রোয়েশিয়া, বসনিয়া ও হার্ৎসেগোভেনিয়া, মেসিডোনিয়া, বুলগেরিয়া, কসভো এবং মন্টেনেগ্রো৷
ছবি: Reuters/M. Djurica
৭. অস্ট্রিয়া
জাম্বিয়া, তুরস্ক, তাঞ্জানিয়া এবং সার্বিয়ার মতো অস্ট্রিয়ার প্রতিবেশীও আটটি৷ সেই দেশগুলো হলো হাঙ্গেরি, স্লোভাকিয়া, চেক প্রজাতন্ত্র, জার্মানি, সুইজারল্যান্ড, ইটালি, লিশটেনস্টাইন এবং স্লোভেনিয়া৷
ছবি: Imago Images/Xinhua/Guo Chen
৬. ফ্রান্স
ইউরোপের এই দেশটিকে ঘিরে রেখেছে বেলজিয়াম, জার্মানি, সুইজারল্যান্ড, ইটালি, স্পেন, অ্যান্ডোরা, লুক্সেমবুর্গ, মোনাকো এবং ব্রিটেন, অর্থাৎ মোট নয়টি দেশ৷
ছবি: Reuters/C. Platiau
৫. জার্মানি
ফ্রান্সের মতো জার্মানিকেও ঘিরে রেখেছে নয়টি দেশ৷ ইউরোপের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশটির প্রতিবেশীরা হলো নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম, ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রিয়া, চেক প্রজাতন্ত্র, পোল্যান্ড, ডেনমার্ক ও লুক্সেমবুর্গ৷
ছবি: picture-alliance/NurPhoto/Y. Tang
৪. ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গো
বুরুন্ডি, রুয়ান্ডা, উগান্ডা, সাউথ সুদান, সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক, কঙ্গো রিপাবলিক, অ্যাঙ্গোলা, জাম্বিয়া ও তাঞ্জানিয়া, অর্থাৎ নয়টি প্রতিবেশী দেশ নিয়ে ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গো আছে এই তালিকার চার নম্বরে৷
ছবি: AFP
৩. ব্রাজিল
ব্রাজিলের প্রতিবেশী দেশ ১০টি৷ দক্ষিণ অ্যামেরিকার এই দেশটিকে ঘিরে রাখা দেশগুলো হলো সুরিনাম, গিনি, ফ্রেঞ্চ গিনি, ভেনেজুয়েলা, কলম্বিয়া, পেরু, বলিভিয়া, উরুগুয়ে, প্যারাগুয়ে এবং আর্জেন্টিনা৷
ছবি: AFP/D. Ramalho
২. রাশিয়া
১৪ টি দেশ ঘিরে রেখেছে রাশিয়াকে৷ সেই দেশগুলো হলো ফিনল্যান্ড, এস্তোনিয়া, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া, বেলারুশ, পোল্যান্ড, ইউক্রেন, জর্জিয়া, আজারবাইজান, কাজাখস্তান, চীন, মঙ্গোলিয়া, উত্তর কোরিয়া এবং নরওয়ে৷
ছবি: Reuters/S. Zhumatov
১. চীন
চীনের ২২ হাজার ১১৭ কিলোমিটারের সীমান্ত ঘেঁষে রয়েছে মোট ১৪টি দেশ৷ সেগুলো হলো ভারত, মঙ্গোলিয়া, কাজাখস্তান, উত্তর কোরিয়া, রাশিয়া, কির্ঘিস্তান, তাজাকিস্তান, আফগানিস্তান, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, মিয়ানমার, লাওস এবং ভিয়েতনাম৷