মেক্সিকো ঘোষণা করেছে, ২৯ জন গুরুত্বপূর্ণ মাদকপাচারকারীকে অ্যামেরিকার হাতে তুলে দেওয়া হবে। এরা সকলেই মেক্সিকোর জেলে বন্দি এবং সেখানেই তাদের বিচার চলছে। দীর্ঘদিন ধরে অ্যামেরিকা এই মাদকপাচারকারীদের নিজেদের হেফাজতে নিতে চেয়েছে।
মেক্সিকোর অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তর এবং নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রণালয় যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে, অ্যামেরিকার বিচার বিভাগ এই মাদকপাচারকারীদের নিজেদের হেফাজতে চেয়েছিল। সে কারণেই তাদের অ্যামেরিকার হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আলোচিত কয়েকটি জেল পলায়নের কথা
জেলে থাকতে কে চায় বলুন? তাই সেখান থেকে পালানোর চেষ্টা করে থাকেন অনেক কয়েদি৷ সবসময় যে সফল হন তা নয়৷
ছবি: picture-alliance/dpa
দ্বিতীয়বার
২০১৫ সালের জুলাই মাসে আবার জেল থেকে পালিয়েছেন মেক্সিকোর মাদক সম্রাট গুসমান৷ গত ১৪ বছরে দ্বিতীয়বার এই কাণ্ড করলেন তিনি৷ এবার জেলখানায় নিজের সেলের গোসলখানার নীচে টানেল তৈরি করে পালিয়েছেন তিনি৷ তাকে কিন্তু মেক্সিকোর সর্বোচ্চ নিরাপত্তাবিশিষ্ট আলতিপ্লানো কারাগারে রাখা হয়েছিল৷
ছবি: Reuters/PGR/Attorney General's Office
ভাল চেষ্টা, কিন্তু..
ছবি দেখেই বুঝতে পারছেন তিনি কীভাবে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু পারেননি৷ ব্যাগের মধ্যে থাকা মেক্সিকোর এই আসামির নাম হুয়ান রামিরেস তিহেরিনা৷ অবৈধ অস্ত্র রাখার দায়ে তার সাজা হয়েছিল৷ ২০১১ সালে তার স্ত্রী কারাগারে তার সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার সময় এই ব্যাগ নিয়ে গিয়েছিলেন৷ পরে স্বামীকে ব্যাগে করে বেরিয়ে আসার সময় ধরা পড়ে যান৷
ছবি: picture-alliance/dpa/Sspqr
বন্দুক আর ছুরি দিয়ে
ইউরোপের সবচেয়ে কড়া নিরাপত্তাবিশিষ্ট জেলখানাগুলোর মধ্যে একটি আয়ারল্যান্ডের দ্য মেজ৷ ১৯৮৩ সালে সেখান থেকে পালিয়ে যেতে সমর্থ হন স্বাধীন আয়ারল্যান্ডের স্বপ্ন দেখা আইরিশ রিপাবলিকান আর্মির ৩৮ সদস্য৷ গোপনে সংগ্রহ করা বন্দুক আর ছুরি দিয়ে তারা জেলের নিরাপত্তা কর্মীদের পরাস্ত করে পালিয়ে যান৷
ছবি: picture-alliance/dpa/P. Mcerlane
ব্যাংক ডাকাতের পালানো
১৯৬২ সালে সান ফ্রান্সিসকো বে-র জেল থেকে পালিয়েছিলেন তিন ব্যাংক ডাকাত৷ ধারালো চামচ আর ড্রিল দিয়ে তারা নিজেদের সেলে গর্ত খুঁড়ে পালিয়ে যান৷ নিরাপত্তা কর্মীদের বোকা বানাতে তারা তাদের বিছানায় নকল মাথা বসিয়ে রেখেছিলেন!
ছবি: imago/Kai Koehler
হেলিকপ্টারে করে পলায়ন
মনে হবে যেন কোনো হলিউড ব্লকবাস্টার মুভির কাহিনি৷ হত্যা মামলায় অভিযুক্ত আসামি পাসকাল পায়ে ফ্রান্সের একটি গ্রামের কারাগার থেকে অপহরণ করা হেলিকপ্টারে করে একবার নয়, দুবার পালিয়ে যান৷ প্রথমবার ২০০১ সালে, পরের বার ২০০৭ সালে৷ শুধু তাই নয়, জেলখানায় নিজের সঙ্গে থাকা তিন কয়েদিকেও একবার হেলিকপ্টারে করে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেছিলেন তিনি৷
ছবি: Getty Images/AFP/B. Horvat
ওজন কমিয়ে পলায়ন!
১৯৭৪ থেকে ১৯৭৮ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে একের পর এক নারী খুন করে আলোড়ন তুলেছিলেন থিওডোর রবার্ট বান্ডি৷ প্রথমবার জানালা দিয়ে লাফিয়ে পড়ে পালাতে গিয়ে ধরা পড়ার পর দ্বিতীয়বার কলোরাডোর একটি জেল থেকে পালানোর জন্য নিজের ওজন ১৩.৫ কেজি কমিয়েছিলেন তিনি! সেলের উপর দেয়ালে লাইট বসানোর জন্য তৈরি করা গর্তের মধ্যে নিজের দেহ ঢোকাতে এই পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি৷ সফলও হয়েছিলেন৷ পরে অবশ্য আবারও ধরা পড়ে গিয়েছিলেন৷
ছবি: picture-alliance/AP
ইস্টারের ডিমের জন্য!
১৯৮১ সালে সুইজারল্যান্ডের কয়েদি ভাল্টার স্টুয়র্ম করাত দিয়ে নিজের সেলের জানালা কেটে নীচে নেমে তারপর মই দিয়ে কারাগারের সীমানা পেরিয়ে যান৷ পালানোর আগে তিনি তার সেলে একটি নোট লিখে যান৷ তাতে লিখা ছিল, ‘ইস্টারের ডিম নিতে যাচ্ছি!’
ছবি: picture-alliance/dpa
7 ছবি1 | 7
কেন এই সিদ্ধান্ত
ট্রাম্প সরকার ক্ষমতায় আসার পরেই ফের মেক্সিকো নিয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। মেক্সিকোর বেআইনি অভিবাসীদের দেশে ফেরত পাঠানো হবে বলে জানানো হয়েছিল। একইসঙ্গে ডনাল্ড ট্রাম্পের সরকার ঘোষণা করেছিল যে, আগামী ৪ মার্চ থেকে সমস্ত মেক্সিকোর পণ্যের উপর ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপানো হবে। মেক্সিকোর এই পদক্ষেপের পর ট্রাম্প প্রশাসন এই শুল্কের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করবে বলেই মনে করা হচ্ছে। বস্তুত, শুক্রবারই মেক্সিকোর গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক অফিসারেরা অ্যামেরিকায় যাচ্ছেন। সেখানে এবিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও অ্যামেরিকার তরফে এখনো এবিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়নি।
কাদের হস্তান্তর করা হচ্ছে
মেক্সিকোরসংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ২৯ জন মাদকপাচারকারীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। তবে মনে করা হচ্ছে বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট পাচারকারীকে অ্যামেরিকার হাতে তুলে দেওয়া হবে। এর মধ্যে ৭২ বছরের রাফায়েল কারো কুইতেরো থাকতে পারে। অ্যামেরিকার ডিইএ এজেন্ট এনরিকে কিকি কামারেনাকে হত্যার সঙ্গে যুক্ত এই কুইতেরো। এনরিকে আন্ডারকভার এজেন্ট হিসেবে কুইতেরোর গতিবিধির উপর নজর রেখেছিলেন।
ওমার এবং মিগুয়েল অ্যাঞ্জেল ত্রেভিনো মোরালেসকেও অ্যামেরিকার হাতে তুলে দেওয়া হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এই দুই মাদকপাচারকারীও গুরুত্বপূর্ণ নাম বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞেরা।